দশ লাখ টাকা লাগলেও স্ত্রীকে আর ঘরে তুলবেন না শহীদ

0
9

ক্রীড়াঙ্গন ডেস্ক:
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)’র মধ্যস্থতাও কোনো কাজে আসেনি। বিসিবিকেও পাত্তা দিলেন না জাতীয় ক্রিকেট দলের পেসার মোহাম্মদ শহীদ। দুই সন্তানসহ এখনও বাবার বাড়ি মুন্সিগঞ্জে অবস্থান করছেন শহীদের স্ত্রী ফারজানা আক্তার। আগস্টের প্রথম সপ্তাহে দুই পরিবার আপস বৈঠকে মিলিত হওয়ার কথা থাকলেও শহীদ তো ননই, তার পরিবারের কেউ সেখানে উপস্থিত হননি। বরং মোবাইলে শহীদ জানিয়ে দেন, দশ লাখ টাকা লাগলেও স্ত্রীকে আর ঘরে তুলে নিবেন না। এ কথা জানান শহীদের স্ত্রী ফারজানা আক্তার।
স্বামীর বিরুদ্ধে নির্যাতন ও পরকীয়ার অভিযোগ এনে চলতি বছরের জুলাই মাসে বিসিবির দ্বারস্থ হন ফারজানা আক্তার। গত ৯ জুলাই নির্যাতনের অভিযোগ এনে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন তিনি। বিসিবির পক্ষ থেকে ফারজানা আক্তারকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল। আপস মীমাংসার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল সাবেক অধিনায়ক ও বিসিবির পরিচালক খালেদ মাহমুদ সুজনের ওপর। কিন্তু সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলে জানিয়েছেন সুজন নিজে। স্ত্রী ও দুই সন্তানকে ঘরে তুলে নেয়ার কোনো পরামর্শ ও অনুরোধ কানেই তুলেননি পেসার শহীদ।
খালেদ মাহমুদ সুজন বলেন, ‘আসলে এটা তার(শহীদ) ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ব্যাপার। আমি শহীদকে অনেক বুঝিয়েছি। কিন্তু সে না শুনলে তো করার কিছুই নেই।’ বিসিবির মধ্যস্থতা ব্যর্থ হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন শহীদের স্ত্রী ফারজানা আক্তার। যে কোনো মূল্যে স্বামীর সংসারে ফিরে যেতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এখন অনেকটাই আশাহত হয়ে পড়েছেন। দুই সন্তান নিয়ে কোন পথে হাঁটবেন, বুঝে উঠতে পারছেন না ফারজানা আক্তার।
তিনি বলেন, ‘আমার দুটি সন্তান। আমি এদের নিয়ে কী করব, কোথায় যাব? আমি স্বামীর সংসারে ফিরে যেত চাই। আমার তো কোনো অপরাধ ছিল না। আমার জীবনটা তবে এভাবে নষ্ট হবে কেন?’
২০১১ সালের ২৪ জুন পারিবারিকভাবে পেসার শহীদ ও ফারজানার বিয়ে হয়। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হওয়ার পর শহীদ পাল্টে যান। তিনি অন্য মেয়েতে আসক্ত হয়ে পড়েন। এর প্রতিবাদ করলে শারীরিকভাবে প্রচ-ভাবে নির্যাতনের স্বীকার হন ফারাজানা আক্তার। চলতি বছর ঈদুল ফিতরের দুই দিন আগে ফারজানাকে তার দুই সন্তানসমেত বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়। এরপর তিনি আশ্রয় নেন মুন্সিগঞ্জে বাবার বাড়িতে।

LEAVE A REPLY