বগুড়ার গাবতলীতে নিরাপত্তা ও বিচার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন এসিড দগ্ধ ছামছুলের

0
1

নিজস্ব প্রতিনিধি:
বগুড়ার গাবতলীতে এসিড নিক্ষেপ করে পুরো শরীর ঝলসে দেয়া মামলার আসামিরা মামলার পর আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আসামিদের বিরুদ্ধে কোনো ভূমিকা না নেয়ায় সুযোগ পেয়ে আসামিরা মাস্তান লেলিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে ভুক্তভোগী বাদী পরিবারকে। উপায়ান্তর না দেখে নিরাপত্তা ও বিচার দাবি করে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন এসিড দগ্ধ ছামছুল হক মণ্ডল।
গত মঙ্গলবার বেলা ১২টায় বগুড়া প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন। শুধু তাই নয় আসামিদের প্রভাবে গতকাল পোড়া-দগ্ধ ভাল না হতেই শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডাক্তাররা তাকে ছাড়পত্র দিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে আবারো আপনাদের সামনে দ্বিতীয়বারের মতো সাংবাদিক সম্মেলনে হাজির হয়েছি। এর আগে অবশ্য আমার ছোট ভাই দুদু মণ্ডল (৪২) গত ২৭ আগস্ট বগুড়া প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করে আমার উপর এসিড নিক্ষেপ করায় দায়ীদের বিচার দাবি করেছিলেন। কিন্তু আসামিরা এতই ধুরন্ধর যে তারা মোটা অর্থের বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে ক্রয় করে তাদের প্রশ্রয়েই আমার পরিবার ও আত্মীয় স্বজনদের উপর ভয়ভীতি ও জীবননাশের হুমকি-ধামকি অব্যাহত রেখেছে।
আপনারা জানেন যে, গত ২৩ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় একই এলাকার মৃত সিরাজুল হক মণ্ডলের পুত্র মো: সাখায়াত হোসেন শাহানাজ (৪০), মৃত কুদ্দুস প্রাং-এর পুত্র মো: শাহিন (২৪), জামেদ আলী প্রাং এর পুত্র সবুজ প্রাং (২৫), হামেদ আলী ম-লের পুত্র ইকতাউর (২২) দলবদ্ধভাবে আমি যখন একই এলাকার মালাবক্স প্রাং-এর পুত্র মো: মিন্টুর (৩০) এর দোকানে টেলিভিশনে খবর দেখার জন্য যাচ্ছিলাম তখন উল্লিখিত ঐ ৪ জন মিন্টুর দোকান থেকে ১৫০ গজ দূরে গোপনে অবস্থান নিয়ে আমার উপর এসিড নিক্ষেপ করে। আমার হাতে থাকা টর্চ লাইট জ্বালিয়েই তাদের চিনতে পারি। এবং এসিডের যন্ত্রণায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ি। এ সময় আমার আর্তচিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে এসে শরীরে পানি ঢালতে থাকে। পরে স্থানীয়রা আমাকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করে। দেহ পোড়ার সাথে সাথে মন পোড়ার যন্ত্রণা নিয়েই আজ আমি আপনাদের সামনে আসতে বাধ্য হয়েছি। আমি খেটে খাওয়া গরীব মানুষ। আনসার ভিডিপির একজন সদস্য। আমার সম্পত্তি গ্রাস করতে গাবতলী সেটেলমেন্টের দালাল শাহানাজ বিভিন্নভাবে টালবাহানা করে আসছে। এর আগেও অনেকের সম্পত্তি গড়মিল দেখিয়ে, ভুয়া কাগজপত্র তৈরির মাধ্যমে অনেক সাধারণ মানুষকে সর্বশান্ত করে কালো টাকার পাহাড় গড়েছে সে। একই সাথে তার এইসব কর্মকাণ্ডে বহিরাগত গুণ্ডাপাণ্ডা গ্রামে প্রবেশ করে কয়েকবার একাধিক ব্যক্তিকে মারপিট ও হেনস্থা করেছে। এইসব অপকর্মে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় অভিযোগকারী ব্যক্তিরা হতাশ হয়ে নিশ্চুপ হয়ে যান। আর এই সূত্র ধরেই আমার উপর এসিড নিক্ষেপের মতো ঘৃণ্য অপরাধ করেও তারা বহাল তবিয়তে থেকে যাচ্ছে। একই ধরনের ঘটনায় তাদের কো না শাস্তি না হওয়ায় তারা একের পর এক অপকর্ম করে পার পেয়ে যাচ্ছে। আপনারা আমার পোড়া-দগ্ধ শরীর দেখে উপলব্ধি করতে পারছেন কতটা যন্ত্রণা আমাকে সহ্য করতে হচ্ছে? আপনাদের কাছে আমার আকুল আবেদন, কেন ২০ দিন পরও আমাকে এবং আমার পরিবারের সদস্যদের সন্ত্রাসীদের হুমকির ভয়ে প্রশাসনের বিরুদ্ধে কথা বলতে হচ্ছে। কেন মামলা (নং১৮/২২৪) হবার পরও এতো দিন পরও কোন আসামি ধরাতো দূরের কথা তদন্তও করতে যাওয়া হয়নি। যে কারণে এলাকায় ঐসব সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কোন সাহসে তারা হুমকি-ধামকি দিয়ে যাচ্ছে?
তিনি আরো বলেন, আমার উপর এসিড নিক্ষেপকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

LEAVE A REPLY