বগুড়ায় কলেজছাত্র খুন লাশ নিয়ে মিছিল

0
4

বগুড়া প্রতিনিধি:
বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে সোহাগ চন্দ্র সরকার (১৭) নামের এক ছাত্র খুন হয়েছে। সোহাগকে বাঁচাতে গিয়ে জখম হয়েছেন তার ভাই সুমন চন্দ্র সরকার (২৬)। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার চককাতুলী হিন্দুপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। দাদন ব্যবসায়ী ও ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।
গাবতলী মডেল থানার পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী তিনজন ব্যক্তির ভাষ্যমতে, বগুড়া সদরের মেঘাগাছা গ্রামের হাফিজার রহমান চিহ্নিত দাদন ব্যবসায়ী। দুই মাস আগে হাফিজার রহমান দাদনের ওপর চককাতুলী গ্রামের মিলন চন্দ্র সরকারকে ১০ হাজার টাকা কর্জ দেন। সুদাসলে তা ১৫ হাজার টাকা শোধ দেওয়ার কথা ছিল। শুক্রবার সন্ধায় হাফিজার সহযোগীদের নিয়ে চককাতুলি গ্রামে মিলন সরকারের কাছে টাকা নিতে যান। এ সময় মিলন দাবির দেড় গুণ হিসাবে সুদাসলে ১৫ হাজার টাকা হাফিজারকে পরিশোধ করেন। কিন্তু হাফিজার ১০ হাজার টাকার দ্বিগুণ মোট ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। ৫ হাজার টাকা পরে দিতে চাইলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিত-া বাধে।
সোহাগ সরকারের বাবা অমূল্য চন্দ্র সরকার বলেন, দাদনের টাকা দেড় গুণ সুদসহ শোধ দেওয়ার পরও অতিরিক্ত পাঁচ হাজার টাকা দাবি করেন দাদন ব্যবসায়ী হাফিজার। এ সময় হাফিজারের সঙ্গে থাকা ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা আমার ভাতিজা মিলন সরকারকে উঠিয়ে নিয়ে যেতে চান। বাধা দিতে গেলে আমার বড় ছেলে অমৃত সরকারকেও (২৮) সন্ত্রাসীরা উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কাকাতো ভাই মিলন ও বড় ভাই অমৃতকে তুলে নিয়ে যেতে দেখে আমার ছোট ছেলে সোহাগ সরকার প্রতিবাদ করে। এ সময় হাফিজার ও সঙ্গে আসা ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা সোহাগের তলপেটে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। ছোট ভাই আক্রান্ত হলে আমার আরেক ছেলে সুমন সরকার এগিয়ে গেলে সন্ত্রাসীরা তাকেও ছুরিকাহত করে পালিয়ে যায়। পরে সোহাগকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পর মারা যায়।
সোহাগ হত্যাকা-ের প্রতিবাদে স্থানীয় লোকজন গতকাল বেলা দেড়টার দিকে লাশ নিয়ে বগুড়া শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথায় বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে। সেখানে বগুড়া জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি দিলীপ কুমার দেবনাথ, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নিরঞ্জন কুমার সিংহসহ অন্য নেতারা সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন। দিলীপ কুমার দেবনাথ বলেন, খুনিরা দ্রুত গ্রেপ্তার না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। এ ঘটনায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সুমন সরকার বাদী হয়ে গাবতলী মডেল থানায় বগুড়া সদরের মেঘাগাছা গ্রামের চিহ্নিত দাদন ব্যবসায়ী হাফিজার রহমান এবং তার ৯-১০ জন সাঙ্গপাঙ্গের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন। গাবতলী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খায়রুল বাশার বলেন, কলেজছাত্র সোহাগ সরকার খুনের সঙ্গে জড়িত থাকায় সুদ ব্যবসায়ী হাফিজার রহমানের দুই সহযোগী সমীর চন্দ্র (২২) এবং আবু তাহেরকে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুজনের বাড়ি বগুড়া সদরের মেঘাগাছা গ্রামে। শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY