মিয়ানমার দূতাবাসে বৌদ্ধ সমাজের স্মারকলিপি প্রদান

0
5

স্টাফ রিপোর্টার:
রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে ঢাকায় মিয়ানমার দূতাবাসে স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশের সম্মিলিত বৌদ্ধ সমাজ। এর আগে গুলশান-২ নম্বর গোল চত্বরের পাশে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন সংগঠনটির নেতারা।
গতকাল বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে বাংলাদেশের সম্মিলিত বৌদ্ধ সমাজের সাতজন প্রতিনিধি বারিধারায় মিয়ানমার দূতাবাসে গিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেন। এ সময় দূতাবাসে কাউকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি, প্রতিনিধিদলের নেতারা ফটকে গিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেন। তবে দূতাবাসের পক্ষ থেকে কে স্মারকলিপি গ্রহণ করেছেন, তা জানা যায়নি।
গুলশান-২ নম্বর গোল চত্বরের সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের সহসভাপতি পি আর বড়–য়া বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চলছে। বাংলাদেশ মুসলমানপ্রধান দেশ হয়েও সব সম্প্রদায় কত শান্তিতে বসবাস করছে; সেখানে মিয়ানমার বৌদ্ধপ্রধান দেশ হলেও যেভাবে সহিংসতার ঘটনা ঘটছে, তাতে বাংলাদেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষেরা মুখ দেখাতে পারছে না। তিনি বলেন, আজ মিয়ানমার দূতাবাসে স্মারকলিপি দেওয়া হলো। এরপর জাতিসংঘের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হবে। জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের কাছেও স্মারকলিপি পৌঁছানো হবে।
বাংলাদেশের সম্মিলিত বৌদ্ধ সমাজের মুখ্য সমন্বয়ক অশোক বড়–য়া বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চলছে। এই নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। দেশ-বিদেশের সবার উচিত বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সাহায্য করা। আর মিয়ানমার সরকারের উচিত, যত দ্রুত সম্ভব বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত নিয়ে যাওয়া। এ ছাড়া মিয়ানমারের উচিত গৌতম বুদ্ধের অহিংস নীতির বাস্তবায়ন করে চলমান সংকট নিরসন করা। বাংলাদেশের সম্মিলিত বৌদ্ধ সমাজের পক্ষে স্মারকলিপি প্রদান করেন আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ধর্মমিত্র মহাথেরো, বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক অসীম রঞ্জন বড়–য়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাক্য বড়–য়া, বাংলাদেশ বৌদ্ধধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সুপ্ত ভূষণ বড়–য়া, বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতি-ঢাকা অঞ্চলের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মিলন মুৎসুদ্দি প্রমুখ।
সাংবাদিক-শিক্ষার্থীর প্রতিবাদ:
মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর চলমান নির্যাতন-নিপীড়নের প্রতিবাদে গুলশান-২ নম্বরে এক প্রতিবাদ সমাবেশের পর সাংবাদিক-শিক্ষার্থীরা মিয়ানমার দূতাবাসে প্রতিবাদলিপি প্রদান করেছেন। এ সময় সাংবাদিক-শিক্ষার্থীদের পাঁচজন প্রতিনিধি দূতাবাসের ফটকে গিয়ে প্রতিবাদলিপি প্রদান করেন। সাংবাদিক মুক্তাদির রশীদ বলেন, দেশের সচেতন নাগরিক হিসেবে তাঁরা মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর চলমান নির্যাতন-নিপীড়নের প্রতিবাদ করছেন। তারা প্রতিবাদলিপিতে বলেছেন, মিয়ানমারে সংগঠিত নৃশংসতা এবং মানবিক বিপর্যয়ের কারণে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। এটি বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি। তাঁরা মিয়ানমার সরকারকে রোহিঙ্গা নাগরিকদের হত্যা বন্ধ করতে এবং বর্তমান পরিস্থিতির আশু সমাধানের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

 

LEAVE A REPLY