শক্তিশালী ভূমিকম্পে ইরাক-ইরানে নিহত ১৩৩

0
7

ইরাক-ইরান সীমান্তবর্তী এলাকায় ৭ দশমিক ৩ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে  নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৩ জন। আহত হয়েছেন অসংখ্য মানুষ। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের কেরমানশাহ প্রদেশে মারা গেছেন ১২৯ জন, আর ইরাকে নিহতের সংখ্যা চারজন। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইরানের স্থানীয় সময় রোববার রাত নয়টা ৫ মিনিট ৩৫ সেকেন্ডে ভূমিকম্প আঘাত হানে

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, ইরাকের হালাবজা শহর থেকে ২১ মাইল দক্ষিণে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। তারা এর মাত্রা ৭ দশমিক ৩ জানালেও ইরাকি আবহাওয়া অফিস মনে করে, এটি ছিল ৬ দশমিক ৫ মাত্রার। ইরাকি একজন আবহাওয়াবিদ জানিয়েছেন, ইরান সীমান্তের খুব কাছে আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলে সুলাইমানিয়াহ প্রদেশের পেনজিনে ছিল এ ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল। ভূমিকম্পের সময় বাগদাদের বাসিন্দাদের অনেকে রাস্তায় নেমে আসেন। এছাড়া শহরটির বহুতল ভবনে অবস্থানরত মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বাগদাদের মসজিদসহ ইরাকের বিভিন্ন স্থানে লাউডস্পিকারে প্রার্থনা করা হয়। ভূমিকম্পের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, তা তুরস্ক, আরমেনিয়া, কুয়েত, জর্দান, লেবানন, সৌদি আরব ও বাহরাইন ও কাতার থেকেও অনুভূত হয়।

ইরানের রেড ক্রিসেন্ট এর প্রধান মোর্তজা সেলিম বলেন, অন্তত আটটি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের বিদ্যুৎ চলে গেছে এবং কোনও কোনও জায়গায় মোবাইল সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। কুর্দিস্তান অঞ্চলের রাজধানী আরবিলসহ উত্তর ইরাকে ভয়াবহ এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের আশপাশের অন্যান্য শহরেও ছিল একই দৃশ্য। পুনরায় ভূকম্পনের আশঙ্কা থেকে মানুষকে ভবন থেকে দূরে থাকা ও লিফট ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছে ইরাকের আবহাওয়া অধিদফতর। ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি ভূমিকম্প কবলিত এলাকাগুলোতে জোরেসোরে ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতা চালানোর জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুররেজা রাহমানি ফাজলিকে নির্দেশ দিয়েছেন।  ইরানের জরুরি সেবা দফতরের প্রধান পির হোসেন কুলিভান্দ বলেন, ভূমিধসের কারণে উদ্ধার তৎপড়তা ব্যহত হচ্ছে।

LEAVE A REPLY