শীঘ্রই বাড়ি যাচ্ছে তোফা-তহুরা

0
3
মস্তিষ্কে জোড়া লাগানো অবস্থায় জন্ম নেওয়া জমজ বোন তোফা ও তহুরার সফল অস্ত্রোপচারের পর গতকাল হাসপাতাল থেকে তাদের অবমুক্তি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।

স্টাফ রিপোর্টার:
এক মাস দশদিন আগে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আলাদা জীবন পাওয়া শিশু তোফা ও তহুরা এখন বাবা-মায়ের কোলে। শীঘ্রই তাদের বাড়ি পাঠানো হবে। গতকাল বেলা সোয়া ১২টার দিকে সংবাদ সম্মেলন কক্ষে তোফার বাবা রাজুর সাথে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এই ঘোষণা দেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাহনুর ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, তোফা ও তহুরা ভাল আছে; অন্য শিশুদের মতো স্বাভাবিক খাওয়া দাওয়া করছে। গতকাল তোফা বসতে শিখেছে। তাদের একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে গ্রামের বাড়ি পাঠানো হবে। তবে তাদের আরও দুবার অস্ত্রোপচার করার প্রয়োজন হবে জানিয়ে এই চিকিৎসক বলেন, জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা করে পরে দিনক্ষণ ঠিক করা হবে। এখন তাদের পুর্নবাসনের প্রয়োজন। তাই তাদের বাবা-মার নামে ডাচ বাংলা ব্যাংকে একাউন্ট খোলা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) মহাসচিব মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন ও হাসপাতালের পরিচালক একেএম নাসির উদ্দিনসহ চিকিৎসকরা বক্তব্য দেন। সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী তোফা ও তহুরার বাবা রাজুর জন্য একটি চাকরির ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন।
গত ১ আগস্ট ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টার অস্ত্রোপচারে দুই বোনকে আলাদা করেন চিকিৎসকরা। অস্ত্রোপচারের পর নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের পাশের একটি কক্ষে প্রায় ২০ দিন রাখা হয় তোফা ও তহুরাকে। সে সময় সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে তাদের সম্পূর্ণ আলাদা কক্ষে রাখা হয়। তারপর তৃতীয় তলার একটি কেবিনে রাখা হয় তোফা ও তহুরাকে। দুই শিশুর মা সাহিদা বেগম শনিবার বলেছিলেন, দুই শিশুই ভাল আছে। দুজনই সমানভাবে চঞ্চল। সামান্য একটু ক্ষত আছে। তাতে কোনো সমস্যা নেই বলে চিকিৎসক জানিয়েছে। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দহবনের কৃষক রাজু মিয়ার এই জমজ শিশু জোড়া লাগানো অবস্থায় ভূমিষ্ঠ হয়েছিল গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর। তোফা আর তহুরার পিঠের দিক থেকে কোমরের নিচ পর্যন্ত মেরুদ-ের হাড় সংযুক্ত ছিল।

LEAVE A REPLY