সিরাজগঞ্জে বাঁধে ভাঙন; নিয়ন্ত্রণে নেই যমুনার পানি

0
6

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জে নির্মাণাধীন নদীতীর রক্ষা বাঁধের ভাঙন মেরামত ও যমুনার পানি নিয়ন্ত্রণ দুদিনেও করা সম্ভব হয়নি। ওই স্থান দিয়ে প্রবল বেগে নদীর পানি প্রবেশ করে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার রতনকান্দি ইউনিয়নের বাহুকা চৌধুরীবাড়ি এলাকায় নির্মাণাধীন নদীতীর রক্ষা রিং বাঁধের ২০ মিটার ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকতে থাকে। ওইদিন রাত ২টা থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্বপাড়ে অবস্থিত সেনা ক্যাম্পের ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের একজন মেজরের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর ৪৫ সদস্যের একটি টিম বাঁধ সংস্কারে কাজ শুরু করে।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ হাসান ইমাম জানান, শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত বাঁধের ভাঙন অংশে দুইটি নৌকা দিয়ে পানি প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করে বাঁধের পাইলিং, বালি ভরতি জিওব্যাগ ও প্লাস্টিকের বস্তা ফেলে ভাঙন নিয়ন্ত্রণ করা হয়। কিন্তু বিকালে নদীতে পানি বেড়ে যাওয়ায় স্রোত বেড়ে নৌকাসহ ভাঙন স্থানের একটি বড় অংশ আবার পানির তোড়ে ভেঙে যায়। তিনি বলেন, গতকাল সকাল থেকে আবার সংস্কার কাজ শুরু করা হয়েছে। ২০ মিটার ভাঙন স্থানের মধ্যে বর্তমানে নয় মিটার দিয়ে পানি প্রবেশ করছে। সংস্কার কাজ চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে বলে আশা প্রকাশ করছেন তিনি। হাসান জানান, পুরাতন নদীতীর রক্ষাবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় চলতি বছরের মে মাসে ২ কোটি ২৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৭৪০ মিটার দীর্ঘ এ রিং বাঁধের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ইতিমধ্যে বাঁধের ৮০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। ভাঙন স্থানটি বাঁধ ও একটি সংযোগ রাস্তার সংযোগস্থল।
সঠিক সময়ে নির্মাণাধীন বাঁধের বাকি ২০ ভাগ কাজ শেষ না হওয়ায় বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়; এ জন্য পাউবো ও ঠিকাদারকেই দুষছেন স্থানীয়রা। বৃহস্পতিবার রাত ৮টা থেকে যমুনা নদীর পানি প্রবল বেগে প্রবেশ করায় বাহুকা, ইটালি, সিমলা, বালিঘুগরি, চিলগাছা, ভেওয়ামারা, গজারিয়া ও পাঁচ ঠাকুরীসহ আশপাশের এলাকা প্লাবিত হয়। ডুবে গেছে এসব এলাকার রাস্তা-ঘাট ও শত শত বসতবাড়ি। বেশকিছু আতংকিত মানুষ বাড়িঘর অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে। অনেকেই বসতভিটা রেখে বাঁধ ও আশ্রয় কেন্দ্রে চলে যায়। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুর রহিম জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি ৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৭৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধির ফলে জেলার চরাঞ্চল, নিুাঞ্চল ও সদর উপজেলার বাঁধ ভাঙন মিলে জেলায় প্রায় ২০০টি গ্রামে পানি প্রবেশ করেছে। পানিবন্ধি রয়েছে প্রায় ২ লাখ মানুষ। তিনি আরও জানান, সদর উপজেলার বাহুকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভাঙনের ফলে এ অঞ্চলে নতুন করে ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। নষ্ট হয়েছে ঘরবাড়ি ও ফসলী জমি। বন্যার্ত মানুষের জন্য এরই মধ্যে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে ১৭৭টি আশ্রয় কেন্দ্র ও মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY