বকশীগঞ্জ সীমান্তে থামেনি হাতির তাণ্ডব

0
13

বকশীগঞ্জ প্রতিনিধি, জামালপুর:
জামালপুরের বকশীগঞ্জের সীমান্তে থামে নি হাতির তণ্ডব। রাতভর চলছে হাতি ও মানুষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। হাতির সাথে লড়াই করেই জীবন কাটছে পাহাড়ী জনপদের মানুষের। গত প্রায় ১৫ বছর ধরে চলছে এই লড়াই। ১৫ বছরে হাতির আক্রমণে প্রায় ২০ জনের প্রাণহানি ও শতাধিক মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। সর্বশেষ গত চারদিনে প্রায় ২৫টি বাড়িঘর ভাঙচুর ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করেছে হাতি। আহত হয়েছে ৫ জন।
জানা গেছে, গত ৫ দিন আগে ভারত থেকে নেমে আসা ৪০ থেকে ৫০টি বন্যহাতি উপজেলার সীমান্তবর্তী কামালপুর ইউনিয়নের গারো পাহাড়ের লোকালয়ে প্রবেশ করে। দিনের বেলায় হাতির পাল পাহাড়ের উঁচু টিলায় অবস্থান করলেও সন্ধ্যার পরেই দলবেঁধে নেমে আসে লোকালয়ে। রাতভর বিভিন্ন বসতবাড়িতে তণ্ডবলীলা চালায় হাতির পাল। গ্রামবাসী দলবেঁধে ঢাকঢোল পিটিয়ে মশাল জ্বালিয়ে হাতি তাড়ানোর চেষ্টা করে। কিন্তু শত চেষ্টা করেও থামানো যাচ্ছে না হাতির তণ্ডব। হাতিআতঙ্কে ওই এলাকার মানুষের দিন কাটছে শঙ্কায়, রাত কাটছে নির্ঘুম। ফলে দিশেহারা হয়ে পড়েছে সীমান্তবর্তী ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নের ১০ গ্রামের অন্তত ২০ হাজার মানুষ।
গতকাল রবিবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাহাড়ী টিলায় অবস্থান করছে হাতির পাল। মাঝে মধ্যে গাছপালা উপড়ে ফেলছে আর হুঙ্কার দিচ্ছে। শত শত উৎসুক জনতা দূর থেকে তা দেখছেন।
গ্রামবাসীরা জানান, সন্ধ্যা হলেই পাহাড়ের উঁচু টিলা থেকে খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে নেমে আসে হাতির পাল। এ সময় বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা, সবজিক্ষেত ও রোপা আমন বীজতলা খেয়ে সাবাড় করে। গ্রামবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে মশাল জ্বালিয়ে হাতি তাড়ানোর চেষ্টা করে। রাতভর চলে হাতি-মানুষের লড়াই। এতে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে বন্যহাতি বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুর চালায় এবং বাড়িতে থাকা ধান, চালসহ বিভিন্ন খাদ্যশস্য খেয়ে বিনষ্ট করে। ঘরে থাকা প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ভাঙচুর করে হাতির পাল। গত চারদিনে ওই এলাকার স্বাধীন মিয়া, নূরজাহান বেগম, উমর আলী, নূর ইসলাম, ইলিয়াস আলী, মুখলেছুর রহমান, আতাউর, সিমেন, জরিফ উদ্দিন, মজল হক, আছিয়া বেওয়ার ২৫টি বসতঘর তছনছ করে। হাতির আক্রমণে আহত হয় ৫ জন। এদের মধ্যে গুরুতর আহত স্বাধীন মিয়া (৪৫) ও নূর জাহান বেগম (৫৫) ময়মনিসংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ব্যাপারে আদিবাসী নেতা ইউপি সদস্য নূরজাহান বেগম অঞ্জলী বলেন, হাতিই এ অঞ্চলের মানুষের বড় সমস্যা। হাতির ভয়ে চলাফেরা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। হাতি কখন কোথায় আক্রমণ চালায় তা বলা মুশকিল।
এ ব্যাপারে কামালপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল জানান, তাৎক্ষণিক ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তা করা হয়েছে। যতটুকু সম্ভব আরো সহায়তা করা হবে। হাতির বিষয়টি স্থায়ী সমাধানে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসান সিদ্দিক জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হচ্ছে। এছাড়া ওই এলাকায় বিদ্যুতের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করা হয়েছে। বিষয়টি স্থায়ীভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে।

LEAVE A REPLY