মালয়েশিয়ায় অবৈধ প্রবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান বন্ধ রয়েছে -প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী

0
2

স্টাফ রিপোর্টারব
বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগের কারণে মালয়েশিয়ায় অবৈধ বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে অভিযান বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি। গতকাল মন্ত্রণালয়ে এক সেমিনারে তিনি বলেন, “তাদের দেওয়া সময় অনুযায়ী আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত অবৈধদের বৈধতার জন্য সময় রয়েছে। কিন্তু তারা হঠাৎ করেই অভিযান শুরু করেছে। এরপরই সরকারের পক্ষ থেকে তাদের জানানো হলে, তারা অভিযান বন্ধ করে।”
মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বৈধ কাগজপত্রহীন শ্রমিকদের বৈধভাবে পুনঃনিয়োগের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত চার মাস ধরে ই-কার্ডের আবেদন নেওয়া হয়, যার সময় শেষ হয় ৩০ জুন। এরপর ১ জুলাই অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়। প্রথম দিনের অভিযানেই ৫১৫ জন বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের আটক করা হয়। তবে মালয়েশিয়ায় অবৈধ প্রবাসীদের বাংলাদেশ হাই কমিশন থেকে পাসপোর্ট ও রিহায়ারিং সম্পন্ন করে বৈধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে হাই কমিশন কর্তৃপক্ষ। জনশক্তি রপ্তানিখাতে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন রিপোর্টার্স ফর বাংলাদেশি মাইর্গ্যান্টস (আরবিএম) ‘মালয়েশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে। সেমিনারে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ চাইলেও মালয়েশিয়ার সরকারের অবস্থানের কারণে সেখানকার শ্রমবাজারে সিন্ডিকেট বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, “মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে সিন্ডিকেট বাংলাদেশ সরকার করেনি, করেছে মালয়েশিয়ার সরকার। বাংলাদেশ সরকার তাদের প্রায় ১,১০০ এজেন্সির তালিকা পাঠিয়েছে। কিন্তু তারা সেখানে মাত্র ১০টি জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানকে কাজ করার অনুমোদন দিয়েছে। ১০টিতে রাজি না হলে তারা তাদের বাজার আবার বন্ধ করে দিতে পারত। তাই আমরা এ নিয়ে আর কোনো কথা বলিনি।” সরকার জাপান ও রাশিয়াসহ আরো বেশ কিছু নতুন শ্রমবাজার খোলার ব্যাপারে কাজ করছে বলেও জানান নুরুল ইসলাম।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব জাবেদ আহমেদ বলেন, “অভিবাসন ব্যয় ও মালয়েশিয়ার সিন্ডিকেট নিয়ে সরকার বিব্রতকর অবস্থায় আছে। এ নিয়ে আমরা কাজ করছি। তবে অনেক সমস্যার সমাধান একদিনে করা যাবে না। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে সিন্ডিকেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এ নিয়ে আদালতে মামলা রয়েছে। তাই আমরা কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছি না। যেসব বিষয়ে কোনো মামলা নেই, আমরা সেসব বিষয় নিয়ে কাজ করছি।” সরকার অভিবাসন ব্যয় কমাতে কাজ করলেও এখনও এটি অনেক দেশের চেয়ে বেশি বলে জানান তিনি। “পৃথিবীর অনেক দেশেই অভিবাসন ব্যয় এত বেশি নয়। তারা যতদূর সম্ভব অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে কর্মী পাঠাতে চেষ্টা করে। যে কারণে নেপালের শ্রমিক এখন বিভিন্ন দেশে বাড়ছে। আমাদেরও এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে হবে।” অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় এবং বিভিন্ন দেশের শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণে সিন্ডিকেট ব্যবস্থাকে অভিবাসন খাতের বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেন রামরুর নির্বাহী পরিচালক সিআর আবরার। তিনি বলেন, “এ ধরনের অবস্থা কাঙ্খিত নয়। দেশের শ্রমবাজার বাঁচাতে এ ধরনের সিন্ডিকেট ব্যবস্থা বন্ধ করতে হবে। অভিবাসন ব্যয়ও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।” বাংলাদেশের শ্রমবাজার সংকুচিত হয়ে পড়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন জনশক্তি প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান ব্যুরোর (বিএমইটি) মহাপরিচালক সেলিম রেজা। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের শ্রমবাজার সংকুচিত হচ্ছে না, বরং কর্মী প্রেরণের পরিমাণ বাড়ছে। এর আগে একবছরে আমরা সর্বোচ্চ ৮ লাখ ৭৫ হাজার কর্মী পাঠাতে পেরেছি। কিন্তু চলতি বছরের প্রথম সাড়ে ছয় মাসে এখন পর্যন্ত কর্মী পাঠানো হয়েছে ৫ লাখ ৫৪ হাজার, যা বছর শেষে অতীতের রেকর্ড ভেঙ্গে ১০ লাখ অতিক্রম করবে।” বিভিন্ন দেশে এখনো ভিসা বিক্রির মতো ঘটনা ঘটায় দেশের অভিবাসন ব্যয় কমানো সম্ভব হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বায়রার সাবেক মহাসচিব আলী হায়দার চৌধুরী বলেন, সৌদি আরব ও মালয়েশিয়ায় শ্রমিকরা গিয়ে বেকার হয়ে পড়ছে। এসব কর্মীদের দূতাবাসের মাধ্যমে সুরক্ষা দিতে হবে। তিনি অভিবাসন ব্যয় এবং সিন্ডিকেট ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। আরবিএম সাধারণ সম্পাদক মাসউদুল হকের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বায়রার যুগ্ম-মহাসচিব শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান, সাবেক মহাসচিব রিয়াজুল ইসলাম, মনসুর আহমেদ কালাম ও বায়রার সহ-সভাপতি আবদুল হাই বক্তব্য দেন।

LEAVE A REPLY