Date: April 23, 2024

দৈনিক বজ্রশক্তি

Header
collapse
...
Home / জাতীয় / ‘আর কিছুই নেই চোখের পানি ছাড়া ’

‘আর কিছুই নেই চোখের পানি ছাড়া ’

September 18, 2023 11:02:19 AM   ডেস্ক রিপোর্ট
‘আর কিছুই নেই চোখের পানি ছাড়া ’

ডেস্ক রিপোর্ট:
‘দোকানে ৮০-৯০ লাখ টাকার কাপড় ছিল। এগুলোর কিছুই সরাতে পারিনি। এখন রাস্তায় ভিখারির মতো হাতও পাততে পারি না। কে আমাকে সাহায্য সহযোগিতা করবে? এখন আমাদের চোখের পানি ছাড়া আর কিছুই নেই।’ আজ সোমবার সকালে  কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের অগ্নিকাণ্ডে নিঃস্ব হয়ে পড়া থান কাপড়ের ব্যবসায়ী তারেক ক্লথ স্টোরের মালিক মো. আব্দুস সালাম ভূইয়া।

তিনি বলেন, ‘কেউ হয়ত সাহায্য করবে সেই আশায় এখনো মার্কেটের সামনে সবসময় চেয়ে থাকি। অপেক্ষায় আছি কখন আবার এখানে বসে বেঁচে থাকার জন্য কোনো ব্যবস্থা করতে পারব। কিন্তু এখন পর্যন্ত ১০টি টাকাও মালিকপক্ষ কিংবা কারো কাছ থেকে অনুদান পাইনি। এই দুরাবস্থার মধ্যে আমরা দিন পার করছি। এখন যে যেভাবে বলছে, সেভাবেই তাদের ডাকে সাড়া দিচ্ছি। আমরা ঢাকায় পরিবার নিয়ে বাসায় ভাড়া থাকি। এখন সেই বাসাভাড়া দেওয়া সম্ভব হবে না। আমাদের বাসা ছেড়ে দিতে হবে। কারণ, আমরা বাসা ভাড়া কোথায় থেকে দেব? এই দোকান থেকে আমি ১০টি টাকাও নিয়েও বের হতে পারিনি।’

মহান আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে আব্দুস সালাম ভূইয়া বলেন, ‘আমার কাছে একটি টাকাও নেই যে, ১০ টাকার জিনিস আমি কিনে সংসার চালাব। বাসা থেকে বের হওয়ার সময় পানি খেয়ে বের হয়ে এসেছি। আল্লাহ যে কখন আমার রিজিক রেখেছেন, সেটি একমাত্র তিনিই জানেন।’ খোকন স্টোরের মালিকের ভাই মোহাম্মদ ইমাম হোসেন বলেন, ‘পুড়ে যাওয়া অংশ দেখিয়ে জনগণ বলছে এগুলো ময়লা। কিন্তু আমি বলছি এগুলো ময়লা নয়, এগুলো সবই হচ্ছে টাকা। এই ব্যবসা নিয়ে জীবন বাঁচানোর যে আশা-ভরসা ছিল। সে আশা তো এখন শেষ। এখন যে একটা মানুষ উঠে দাঁড়াবে সেই ক্ষমতাও কারো নেই। সিটি কর্পোরেশন যদি এই ময়লাগুলো নিয়ে আমাদের ব্যবসা করার একটু সুযোগ-সুবিধা দিতো, তাহলে হয়ত আমরা ধার বা ব্যাংক লোন করে আবার ব্যবসা-বাণিজ্য করার চেষ্টা করতে পারব। তাছাড়া আর কিছু করার নেই।’

তিনি বলেন, ‘সিটি কর্পোরেশন প্রথম দুইদিন সামনের ময়লাগুলো নিয়ে গেছে। কিন্তু ভেতরের ময়লাগুলো তারা এখন আর নিচ্ছে না। তাদের তেমন কোনো কার্যক্রমও দেখছি না। এখনই মার্কেট আমাদেরকে দেবে না কি দেবে না, সেটিরও ভরসা পাচ্ছি না। এখন প্রধানমন্ত্রী যদি আমাদের দিকে তাকায়, তাহলে হয়ত আমরা কিছু করতে পারব। না হলে আর কিছু করার থাকবে না। বর্তমানে আমাদের এখানে এসে চোখের পানি ফেলা ছাড়া আর কিছু করার নেই।’

মার্কেটের খ-৪০ ও খ-৮৫ দোকানের মালিক ইয়াসিন বলেন, ‘সিটি কর্পোরেশন যদি টিনগুলো সরিয়ে দেয় তাহলে আমরা ব্যবসা শুরু করতে পারব। আমরা তো অলরেডি মরেই গেছি, আর কী মরব! কিন্তু ক্রেতাদের যেন কোনো ধরনের সমস্যা না হয় সেজন্য অন্তত জায়গাটা পরিষ্কার করে ময়লাগুলো নিয়ে যাক।’ তিনি বলেন, ‘আমরা আসলে কিছুই বুঝতে পারছি না। এত বড় একটা দুর্ঘটনা ঘটেছে, সিটি কর্পোরেশনের উচিত ছিল তারপরের দিনই ময়লাগুলো পরিষ্কার করে দেওয়া। আজকে ৩-৪ দিন হয়ে গেল ময়লা পরিষ্কারের কোনো ‘নাম-গন্ধও’ নেই। সিটি কর্পোরেশন থেকে বলা হয়েছিল, যার যার দোকানের ময়লা তারা যেন বের করে সামনে রাখে। আমরা তাদের কথামতো ময়লাগুলো বের করে সামনে রেখেছি। কিন্তু এখন তারা তাদের কথা রাখছে না।’

মুদি দোকানের মালিক আব্দুল লফিত বলেন, ‘বর্তমানে যদি এই মার্কেটের ময়লা পরিষ্কার করে পুড়ে যাওয়া টিনগুলো সরিয়ে দিয়ে এবং এঙ্গেলগুলো যদি সোজা করে দেয়, তাহলে হয়ত আমরা আবার ব্যবসা শুরু করতে পারব। আমাদের আর তেমন কোনো সহযোগিতার দরকার নেই। আমরা নিজেরা দোকানদারি করতে পারব। এখন আমাদের একটাই দাবি এগুলো সরিয়ে দেওয়া হোক।’ তিনি বলেন, ‘সিটি কর্পোরেশনকে জানানো হয়েছে। তারা বলেছে যে, আপনার কিছু ধরবেন না আমরা সব পরিষ্কার করে দেব। কিন্তু এই যে তিনদিন হয়ে গেল এখন পর্যন্ত তারা কোনো পরিষ্কারই করেনি। আমরা নিজেরা ময়লা পরিষ্কারের উদ্যোগ নিয়েছি। কিন্তু টাকা দিয়েও আমরা গাড়ির ব্যবস্থা করতে পারছি না। আমরা এই মুশকিলের মধ্যে আছি এখন।’