Date: April 27, 2026

দৈনিক বজ্রশক্তি - অন্যায়ের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর

collapse
...
Home / সারাদেশ / ঢাকা / শ্রীপুরে সরকারি স্কুলেই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগ

শ্রীপুরে সরকারি স্কুলেই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগ

April 27, 2026 04:48:28 PM   উপজেলা প্রতিনিধি
শ্রীপুরে সরকারি স্কুলেই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগ

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা জে এম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আয়েশা সিদ্দিকার বিরুদ্ধে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণেই অবৈধভাবে কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে বিদ্যালয়ের কয়েকজন সহকারী শিক্ষককে সাথে নিয়ে তিনি নিয়মিত এই বাণিজ্য চালাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

গত রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, শ্রেণিকক্ষেই শিক্ষার্থীদের কোচিং করানো হচ্ছে। স্থানীয়দের তথ্যমতে, প্রতিদিন দুই ধাপে এই কোচিং চলে। প্রথম ধাপে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ৯টা পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় ধাপে স্কুল ছুটির পর বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে পাঠদান চলে। এই কার্যক্রম প্রায় প্রতিদিনের নিয়মিত চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, প্রধান শিক্ষক আয়েশা সিদ্দিকা বিদ্যালয়ের বাইরেও একটি পৃথক কোচিং সেন্টার পরিচালনা করছেন। সেখানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পাশাপাশি বাইরের শিক্ষকদের নিয়োজিত করা হয়েছে। কয়েকশ শিক্ষার্থীকে সেখানে বিভিন্ন প্রকাশনীর গাইড ও নোটবই পড়ানো হচ্ছে এবং এর বিনিময়ে অর্থ নেওয়া হচ্ছে। কোচিংয়ে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রতি মাসে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে, যা অভিভাবকদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কোচিং বা প্রাইভেট পড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই ধরণের কাজকে শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে গণ্য করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।

এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা নাসরিন বলেন, সরকারি শিক্ষকদের প্রাইভেট বা কোচিং পড়ানোর ওপর স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা আছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গাজীপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাসুদ ভূঁইয়াও একই কথা জানান। তিনি বলেন, সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কোচিং করানোর কোনো সুযোগ নেই। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আয়েশা সিদ্দিকা কোচিং করানোর বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, কিছু শিক্ষার্থী পড়াশোনায় দুর্বল হওয়ায় অভিভাবক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির সাথে আলোচনা করেই এই কোচিং চালু করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টিও তিনি অস্বীকার করেননি।

তবে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির (এসএমসি) সভাপতি সামান উদ্দিন সাদিক প্রাইভেট বা কোচিংয়ের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন।

এদিকে এই বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন ওই বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের স্বামী শফি কামাল। তিনি নিজেকে সমাজকর্মী ও সচেতন নাগরিক পরিচয় দিয়ে সাংবাদিকদের উপস্থিতি নিয়ে আপত্তি জানান। তার দাবি, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাইভেট পড়ানো একটি স্বাভাবিক বিষয় এবং এখানে সংবাদকর্মীদের আসার প্রয়োজন নেই। স্থানীয়দের মতে, এই ধরণের আচরণ সত্য প্রকাশের পথে একটি বড় বাধা।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, বিদ্যালয়ে পাঠদানের মান বাড়ানোর পরিবর্তে শিক্ষকরা কোচিং বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়ায় শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। তারা দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।