মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আর্ট কম্পিটিশনের চূড়ান্ত পর্ব ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান প্যারামাউন্ট ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ঢাকার (পিআইএসডি) মগবাজার ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিশুদের কল্পনা, সৃজনশীলতা ও দেশপ্রেমের বিকাশে এই আয়োজনটি এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিআইএসডির চেয়ারম্যান এনামুল হক সরকার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনামুল হক সরকার বলেন, আর্ট হলো কল্পনার প্রতিফলন। প্রতিটি শিক্ষার্থীর উচিত ভবিষ্যতে যে পেশাতেই যেতে চাক না কেন, তার আগে শিল্পচর্চার সঙ্গে যুক্ত হওয়া। কারণ কল্পনাই মানুষকে সৃজনশীল করে তোলে এবং বাস্তবতার পথ দেখায়। তিনি আরও বলেন, শিশুরা যখন রঙ-তুলির মাধ্যমে নিজেদের ভাবনা প্রকাশ করে, তখন তাদের ভেতরের সম্ভাবনা স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। এই সৃজনশীলতাই একদিন তাদের জীবনে বড় সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অভিভাবক প্রতিনিধি ও ত্রিভুজ সমাজ কল্যাণ সংস্থার চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দিন আহমেদ, অভিভাবক প্রতিনিধি আসাদ এবং বাংলাদেশ জার্নালিস্ট অ্যালায়েন্স ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি ও ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটসের হেড অব মিডিয়া সেল এস এম শামসুল হুদা। তাঁরা তাঁদের বক্তব্যে শিশুদের সৃজনশীল চর্চা, দেশপ্রেম ও নৈতিক মূল্যবোধ গঠনে এ ধরনের আয়োজনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
বিদ্যালয়ের প্রিন্সিপাল আবদুল্লাহ মাহবুব খান, ভাইস প্রিন্সিপাল মুমতাহিনা ঝুমা মমো এবং অ্যাকাডেমিক কো-অর্ডিনেটর সুরাইয়া সাদিয়া খানম মীম অনুষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন। তাঁরা মহান বিজয় দিবস ও আর্ট কম্পিটিশনের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, এ ধরনের কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস, সৃজনশীলতা ও জাতীয় চেতনা গড়ে তোলে। বক্তারা আরও জানান, পিআইএসডি নিয়মিতভাবেই শিক্ষার্থীদের জন্য এমন সৃজনশীল ও মূল্যবোধভিত্তিক কার্যক্রম আয়োজন করে, যাতে তারা শুধু পড়াশোনায় নয়, মানবিক ও সামাজিক দিক থেকেও সমৃদ্ধ হয়ে উঠতে পারে।
পিআইএসডির লিড টিচার সামিনা ইমদাদ ইশিতা ও সুমাইয়া মেহজাবিনের সঞ্চালনায় এবং বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সহযোগিতায় পুরো অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এ সময় আনন্দ, গর্ব ও উৎসাহে ভরে ওঠে পুরো অনুষ্ঠানস্থল। এই আয়োজন শিশুদের সৃজনশীলতার স্বীকৃতি ও উৎসাহ প্রদানের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেশপ্রেমিক, কল্পনাশক্তিসম্পন্ন ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন আয়োজকরা।