রাজশাহী প্রতিনিধি:
রাজশাহীর রাজপথের পরিচিত মুখ এবং জেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী অ্যাডভোকেট শামসাদ বেগম মিতালী এখন জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের আলোচনায় রয়েছেন। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে সামনের সারিতে থাকা এই রাজনৈতিক কর্মীকে সংসদে দেখতে চান রাজশাহীর ত্যাগী নেতাকর্মীরা।
মিতালীর জন্ম এক লড়াকু রাজনৈতিক পরিবারে। তার বাবা আব্দুল হামিদ মরু (মরু হামিদ) ছিলেন বাগমারা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এবং জেলা বিএনপির সহসভাপতি। তিনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৩ সালে সর্বহারা সন্ত্রাসীদের হাতে তিনি নির্মমভাবে নিহত হন। বাবার আদর্শ বুকে নিয়েই মিতালী ছোটবেলা থেকে রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন।
পেশায় আইনজীবী মিতালী আইন পেশার চেয়ে রাজনীতির মাঠেই বেশি সময় দিয়েছেন। ২০১৪ সালে রাজপথের মিছিল থেকে তাকে আটক করে অন্ধকার ঘরে আটকে রেখেছিল পুলিশ। পরবর্তীতে তাকে জেলেও যেতে হয়। কারাগারের সেই কঠিন দিনগুলো তাকে মানসিকভাবে আরও শক্তিশালী ও পরিপক্ক করে তোলে বলে মনে করেন তার সহকর্মীরা। জেল থেকে মুক্তির পর দলীয় নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়াতে তিনি আরও সোচ্চার হন। নেতাকর্মীদের নামে হওয়া শত শত হয়রানিমূলক মামলায় তিনি আদালতে আইনি লড়াই চালিয়েছেন।
সংরক্ষিত নারী এমপি পদের জন্য গত শুক্রবার ১০ এপ্রিল দলের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন শামসাদ বেগম মিতালী। বর্তমানে রাজশাহীর মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন তিনি।
নিজের আগ্রহের বিষয়ে মিতালী বলেন, দলের দুঃসময়ে রাজপথে সক্রিয় থেকেছি এবং নেতাকর্মীদের আইনি সহায়তা দিয়েছি। আমার ত্যাগ ও অবদান দল মূল্যায়ন করবে বলে আমার বিশ্বাস।
রাজশাহীর স্থানীয় নেতাকর্মীরা মনে করেন, মিতালীর মতো একজন ত্যাগী ও সাহসী নেত্রীকে সংসদে পাঠালে তিনি নারী অধিকার এবং এলাকার মানুষের সমস্যাগুলো জোরালোভাবে তুলে ধরতে পারবেন। তথ্য ও ছবি সংগ্রহ করা হয়েছে স্থানীয় সূত্র থেকে।