Posts by বিশেষ নিবন্ধ:
বর্তমানে মধ্যযুগ কথাটি শুনলেই আমাদের চিন্তার জগতে ভেসে ওঠে মধ্যযুগীয় বর্বরতার সেই কলঙ্কজনক অধ্যায়ের কাল্পনিক দৃশ্য। বাস্তবের সাথে সেই কল্পনার মিল কতটুকু বা আদৌ কোনো মিল আছে কিনা তা এখন আলোচনা না করে আমি একটা মৌলিক প্রশ্ন তুলতে চাচ্ছি যে, এই বর্বরতা আসলে কোন জাতির বীভৎস ইতিহাস এবং তা বর্তমানে কোন জাতির ইতিহাসের সাথে জুড়ে দেওয়া হয়েছে।
এটা দৃশ্যমান বাস্তবতা যে আমাদের আলেমরা ওয়াজ করছেন, ধর্ম উপদেশ দিচ্ছেন, মসজিদে ইমামতি করছেন, মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করছেন, বিভিন্ন সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন, গণমাধ্যমে বহু ধর্মীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করছেন। এসব থেকে মনে হচ্ছে যেন দীনের অগ্রগতি সাধনে তাদের অনেক অনেক অবদান।
দোয়ার শাব্দিক অর্থ হচ্ছে প্রার্থনা (চৎধুবৎ)। কোনো কর্তৃপক্ষের নিকট কোনো কিছু চেয়ে আবেদন করার নামই হলো প্রার্থনা। ইসলাম ধর্মে দোয়ার মানে হল আল্লাহর কাছে সাহায্য চেয়ে কোনো কিছুর জন্য আবেদন করা। কিন্তু বর্তমানের মুসলিম সমাজের দিকে দৃষ্টিপাত করলে দেখা যায় যে, তারা দোয়ার প্রকৃত অর্থই ভুলে গেছে।
৫৭০ খ্রিষ্টাব্দ। আরবে তখন আইয়ামে জাহেলিয়াত, অজ্ঞানতার যুগ, অন্ধত্বের যুগ। ইবরাহীম (আ.) ও ইসমাঈল (আ.) যে তওহীদের শিক্ষায় জাতিকে আলোকিত করে গিয়েছিলেন, সেই আলো আর নেই। শিরক, কুফর, আর অজ্ঞতার অন্ধকারে নিমজ্জিত সমগ্র আরব সমাজ। এই অজ্ঞতা আর অন্ধত্বে ভরা আরবের মাটিতে মুক্তির আলোকবর্তিকা হাতে আবির্ভূত হলেন বিশ্বনবী হযরত মোহাম্মদ (স.)।
মদিনা শব্দের অর্থ হচ্ছে শহর। ইয়াসরিব নামের ছোট্ট কৃষিপ্রধান গ্রামটির একটি ঐতিহাসিক শহরে পরিণত হওয়ার গল্পটা কিন্তু সাধারণ কোনো নগরায়ণের গল্প নয়। এর পেছনে রয়েছে এক মহান আদর্শের উত্থান যা একটি সভ্যতার ভিত্তি রেখেছিল ইয়াসরিব গ্রামের মাটিতে।
পশ্চিমা জড়বাদী সভ্যতার ডান চোখ অন্ধ বলে এই সভ্যতা জীবনের আত্মা ও পরকালের দিকটি একেবারেই দেখতে পায় না। কেবল বাম চোখ দিয়ে জীবনের একটি দিক অর্থাৎ দেহের দিক, বস্তুর দিক দেখতে পায়। তাই বস্তু ও দেহ নিয়েই এই সভ্যতার যত মাথা ব্যথা, আত্মার ও নৈতিকতার অধঃপতন চোখে দেখে না।
আল্লাহর রসুল (সা.) কা’বা শরীফের দেওয়ালে হেলান দিয়ে বসে আছেন। সময়টা অত্যন্ত কঠিন। তিনি ও তাঁর সাহাবীগণের (রা.) ওপর প্রচণ্ড বাধা এবং অবর্ণনীয় নির্যাতন নিপীড়ন চলছে। হঠাৎ একজন সাহাবা খাব্বাব (রা.) বললেন, “হে আল্লাহর রসুল! এই অত্যাচার নিপীড়ন আর সহ্য হচ্ছে না। আপনি আল্লাহর কাছে দোয়া করুন আমাদের বিরোধীরা সব যেন ধ্বংস হয়ে যায়।”
ইসলামি বিপ্লবের চার বছর পরে ১৯৮৩ সালে ইরানে হিজাব সংক্রান্ত আইন চালু করা হয়। তখন থেকেই প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নারীকে মাথা ঢেকে হিজাব পরা বাধ্যতামূলক করা হয়। এই বিধিগুলো তদারক করার জন্য রয়েছে দেশটির ‘নৈতিকতাবিষয়ক’ পুলিশ। দীর্ঘদিন এই আইন মেনে চললেও, গত ১৬ সেপ্টেম্বের মাহসা আমিনি নামে এক কুর্দি তরুণীর হিজাব আইনে গ্রেপ্তারের পরে মৃত্যুর ঘটনায় ইরানজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয় যা এখনও চলমান (এএফপি)।
আপাতদৃষ্টিতে জঙ্গিবাদকে ইসলাম থেকে সৃষ্ট মনে হলেও আমরা যদি এর গোড়াতে যাই তাহলে দেখতে পাবো জঙ্গিবাদের জন্য ইসলাম দায়ী নয়। আজকে পৃথিবীময় যে জঙ্গিবাদ তার উত্থানের জন্য প্রধানত দায়ী পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো। আশির দশকে আফগানিস্তানের মাটিতে এই জঙ্গিবাদের বীজ বপন করেছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার আরবীয় মিত্ররা।
বাংলার ইতিহাসে যে কয়টি বংশ শাসক হিসেবে সুপরিচিত হয়েছে তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে টাঙ্গাইলের করটিয়ার পন্নী জমিদার বংশ। পন্নী জমিদার বংশের ইতিহাস সুপ্রাচীন এবং এখন পর্যন্ত সমাদৃত। হেযবুত তওহীদ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা এমাম এমামুয্যামান জনাব মোহাম্মাদ বায়াজীদ খান পন্নীর ধমনীতেও এই পন্নী জমিদার বংশের রক্তই প্রবাহিত ছিল।
আমরা জানি, যে কোনো সংকটকালে সবচেয়ে কষ্ট পায় শিশুরা, সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত হয় নারীরা। বিশেষ করে সংকটের সুযোগ নিয়ে নারীদের ধর্ষণ করা হয়, বন্দী করে নিয়ে যাওয়া হয়। উদ্বাস্তু শিবিরে গিয়েও তাদের বিক্রি হতে হয়। কারণ হচ্ছে, নারী দুর্বল। পৃথিবীর যে কোনো দেশে যুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে এটাই হয়ে থাকে। আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া, মায়ানমারের নারীরা তো কম পর্দা করেন না।